পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বিরুদ্ধে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এছাড়া অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ মে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পর ওই ছাত্রী তার বাবাকে জানায় যে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে তারা আইনের আশ্রয় নিতে থানায় গেলে ছাত্রীর এসএসসি পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বলেন, 'আমার মেয়ের নিরাপত্তা ও লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চরম উদ্বিগ্ন। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'
এদিকে শিক্ষকের এমন অপকর্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়টির সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
তবে শ্লীলতাহানির এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত রাখতে ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, 'বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'